নোটিশ :
জরূরী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: সারাদেশ ব্যাপী সাংবাদিক নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন: +৯১৬২৯৫৩৩০৭৮৭/+৯১৮৯০০১৪৮১৯৭/+৯১৮৭৬৮২০৭২০০, সিভি পাঠান:  admin@expressbangla.com

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল চাই বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট

ডিজিটাল ডেস্কঃ খুলনার রুপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের শিয়ালী গ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে আজ ১১ই আগষ্ট রোজ বুধবার বিকাল ৪ ঘটিকায় ঢাকা মহানগরীর শাহাবাগ চত্ত্বরের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট এর উদ্যাগে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন হিন্দু মহাজোটের সভাপতি ড. প্রভাস চন্দ্র রায়, আরো বক্তব্য রাখেন হিন্দু মহাজোটের প্রধান সমন্বয়কারী শ্যামল কুমার রায়, নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে, সংগঠনটির সহ-সভাপতি প্রভাষ মন্ডল, যুগ্ন সম্পাদক সমীর সরকার, সংগঠন টির অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু যুব মহাজোটের সভাপতি প্রদীপ কান্তি দে, সাধারণ সম্পাদক রাজেশ নাহা, ছাত্র মহাজোটের সভাপতি সজিব বৈদ্য।
সংগঠনটির সভাপতি ড. প্রভাষ চন্দ্র রায় তার বক্তব্যে বলেন – খুলনা জেলার রুপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের শিয়ালী গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর যে বর্বরোচিত হামলা তা স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ও নৃশংস হামলা। এই পরিকল্পিত হামলা দেখে মনে হয়েছে দেশ ৭১ এর আগে ফিরে গিয়েছে। হিন্দু বিদ্বেষী মনোভাব আগের থেকে অনেক বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ ধর্ম নিরেপক্ষতা ও সব ধর্মের উপর সহনশীলতা নিয়ে স্বাধীন হয়েছিল। এইসব অরাজকতা দেখার জন্য দেশ স্বাধীন হয়নি। বাংলাদেশের যারা স্বাধীনতা চাননি আক তারা স্বাধীন! কিন্তু যারা স্বাধীনতার জন্য বুকের রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করে সে সমস্ত হিন্দু সম্প্রদায় আজ পরাধীন। হিন্দু সম্প্রদায় আজ নিজের দেশে, নিজের মাতৃভূমিতে মর্যাদার সাথে থাকতে পারছে না, সবসময় ভয় আর উৎকন্ঠা নিয়ে থাকতে হচ্ছে। অধিকাংশই ভয়ে কোন স্থাপনা তৈরি করতে পারছে না, এই ভেবে যদি তাদের সম্পদ বিনষ্ট এবং কেড়ে নিয়ে যায়। এরপর সংগঠনটির নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে বলেন ১৯৭৫ সালের পর থেকে এদেশকে যারা স্বাধীন দেখতে চাননি, যারা বাংলাদেশকে স্বীকার করতেই চাই নি, তাদের কে রাজনীতি করতে দেওয়া যে কতখানি আত্মঘাতী ছিল, তা বর্তমানের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি দেখে সম্যক উপলব্ধি করা যায়। সেই সময়ে মৌলবাদীরা যে বীজ বপন করেছিল তা আজ বেড়ে মহীরুহতে পরিণত হয়ে উঠেছে। সংখ্যালঘুদের এরা বাংলাদেশের নাগরিক মনে করছে না, বিজাতীয় ভাবছে। প্রতিটি ঘটনার পরে কয়েকজন গ্রেফতার হয় এরপরে জামিন পেয়েই বাদীদের উপর অধিকমাত্রায় অত্যাচার এবং মামলা উঠিয়ে নেওয়া জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দিতে থাকে। কোন বিচার আর হয় না এবং সর্বদা হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ঘটে যাওয়া নির্যাতন গুলো বিচারহীন ভাবে শেষ হয়ে যায়। তাই এটা মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, এইসব ভাংচুর ও অধিকতর নির্যাতন সত্ত্বেও বিচার না হওয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আজ নিপীড়িত। মনে হচ্ছে যে অসাম্প্রদায়িকতার হাত ধরে দেশ চালালেও সরকারের কেউ কেউ মৌলবাদীদের আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দু তরুণ ঝুমন দাশ আপনকে গ্রেফতার করলেও তাকে এখনো সুষ্ঠু বিচারের আওতায় নেয়া হচ্ছে না। মামুলুল হকের বিরুদ্ধে কি পোস্ট দিয়েছে তা দেশবাসী দেখেছে সেখানে ইসলাম কে কটাক্ষ করার কোন শব্দ লিখা হয় নি। তারপরও সে আজ কারাগারে! হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়ে নেতৃত্ব দেওয়া হিন্দু নেতৃবৃন্দের মুখ বন্ধ করাই ছিল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের উদ্দ্যশ্য। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কি শুধু সংখ্যালঘুদের জন্য? হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের গ্রেফতার করে প্রশাসন কাদের সন্তুষ্ট করতে চাই! এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ধারা যদি সবার জন্য সমান প্রয়োগ না হয়, তাহলে এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। সকল মৌলবাদীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে আর যারা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হামলায় জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

উক্ত দাবীর স্বপক্ষে আগামীকাল ১২ ই আগষ্ট সারাদেশে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2020 ExpressBangla.Net
Design & Development By: Hostitbd.Com